অণুগল্প : ‘ভাই-বোনের ভালোবাসা’ – ডি এইচ শিশির

ভাই-বোনের ভালোবাসা

ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় এলাম। দেখলাম মিষ্টি- সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করছে ছোটবোন ফাতিমা। কিছুক্ষণ শুনলাম অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে। আমার সকল অনুভূতি যেন থমকে গেল। পবিত্র- নমনীয়, আর এক অন্যরকম ভাল লাগা আচ্ছন্ন করল আমাকে।

তেলাওয়াত থেমে গেছে কিন্তু সেই অনুভূতি এখনো রয়েগেছে। আমি তার জায়নামাজের একপ্রান্তে বসলাম। মাথায় আদর করে বললাম, ‘আপুমণী, তুমি তো দেখছি অনেক সুন্দর তেলাওয়াত করতে শিখেছ ।’

ও কতক্ষণ চুপথাকল। তারপর আমার চোখের দিকে তাকিয়ে মুখে ছোট্ট একটুকরো হাসি অঙ্কন করে বলল, ‘ধন্যবাদ! ভাইয়া।’

আমিও ওকে ফেরত দেবার জন্য মুখে একচিলতে স্নিগ্ধ হাসির রেখাটেনে বললাম, ‘হুমমম এখন থেকে অর্থ সহ তেলাওয়াত করবা। কি পড়ছ, কি বলছ তা যদি বুঝতে না পার তাহলে আর মজা কোথায়!’

‘আচ্ছা ঠিক আছে। ভাইয়া, এই আয়াতের মধ্যে বারবার ইসলামের কথাবলা হয়েছে। ইসলাম মানে কি?’

‘তুমি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছ আপু।

‘চার’ অক্ষরের একটি শব্দ ইসলাম। কিন্তু এর ব্যাপ্তি বিশাল, বিস্তৃত। দিগন্তব্যাপী এক নাম। বিশ্বজোড়া মানুষের আস্থা- আশা আকাঙ্খা, প্রাপ্তি সবকিছুই এই নামের মধ্য নিহিত আছে। কিন্তু তোমার আমার কাছে ঠিক এই মুহূর্তে ইসলাম মানে জ্ঞানার্জন। তুমি আমি আমরা দুজনেই এখন স্টুডেন্ট। আর স্টুডেন্টসদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো
চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সবকিছু থেকে শিক্ষা নেওয়া। ঠিকমতো পড়াশুনা করা। নিজেকে শিক্ষিতকরণের মধ্যে দিয়ে জ্ঞানের শীর্ষে আরোহণ করা। আর সেই শীর্ষ স্থান থেকে সর্বান্তকরণে চেষ্টা করতে হবে ইসলামের জন্য কাজ করার। যে যতবেশি উঁচ্চতাই আরোহণ করতে পারবে সেই ততবেশি ইসলামের জন্য কাজ করতে পারবে।

আমি বলছি আর ফাতেমা তার মুখের সাথে হাত দিয়ে শুনছে। কতক্ষণ চোখ বড় বড় করে তাকালো। তারপর আদর করে ওর দু’হাত দিয়ে আমার গলা পেচিয়ে ধরে বলল, ‘আমার ভাইয়া সবার সেরা ভাইয়া। এখন থেকে প্রতিদিন পড়া শেষে একটা করে প্রশ্ন করব।’

আমি ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে বললাম, ‘ আচ্ছা কইরো আপুনি। আর শুনো, তোমার ভাইয়া সেরা নয়। তবুও যদি সেরা বলতে চাও তবে বলব তোমাদের মতো সেরা তিন তিনটা বোন পেয়ে তোমাদের ভাইয়া সেরা বোনেদের সৌভাগ্যবান ভাই হয়েছে। এদিকদিয়ে ও কিন্তু সে সেরাই হলো। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে সেরা হবে তখন, যখন সেরা মানুষ দেখে তোমাদেরকে তাদের হাতে তুলে দিতে পারবে।’

লজ্জায় ওর ফর্সা মুখ রাঙা হয়ে উঠলো। চোখে- মুখে কৃত্রিম রাগ ফুঁটিয়ে তুলে চোখ পিটপিট তাকালো কয়েকবার তারপর আমার পিঠে দুইটা কিল বসিয়ে দিয়ে দৌড়ে পালাল ওর রুমের দিকে।

Share with Friends

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top